
ফাইল ছবি
নতুন বেতনকাঠামো বা নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং সরকারের পক্ষ থেকে আসা ভিন্নধর্মী বক্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং নিজেদের দাবি আদায়ে এবার রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্মচারী সংগঠনগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য নিরসনে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার একটি পে কমিশন গঠন করেছিল। ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। এমনকি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদও এই সরকারের সময়েই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে গত নভেম্বর মাসে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করে জানান, নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। উপদেষ্টার এই বক্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়, যা এখন রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিতে যাচ্ছে।
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, নতুন বছরের শুরু থেকেই তারা ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট তারিখ ও রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সম্ভাব্য কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে:
দেশজুড়ে প্রতীকী অনশন ও বিক্ষোভ সমাবেশ।
ঢাকায় বিশাল পরিসরে মহাসমাবেশ।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দৈনিক এক থেকে দুই ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তারা চাকরির শৃঙ্খলা ও বিধিমালার বাইরে কোনো বিশৃঙ্খল কর্মসূচি দেবেন না। সংগঠনের এক নেতা বলেন, “আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের লড়াই করব শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই। তবে আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতির কারণে কর্মচারীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।






































