বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজধানী ৪ জুন ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল


hadi-kill

সংগৃহীত ছবি

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা দেশি-বিদেশি চক্রান্ত উদ্‌ঘাটনের দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শাহবাগ মোড় ঘুরে পুনরায় রাজু ভাস্কর্য এলাকায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মশাল মিছিল চলাকালীন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’, ‘ওসমান হাদি, বাংলাদেশের আজাদী’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’—ইত্যাদি স্লোগানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

এর আগে গতকাল বুধবার (৩ জুন) ঢাবির মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হলেও খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে কোনো কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

তিনি দাবি করেন, মূল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতেই বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে হত্যাকাণ্ড নয়; বরং এর পেছনে গভীর দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা ও বড় ধরনের নীলনকশা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভারতের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “ওই বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে ধারণা করা যাচ্ছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রভাবশালী সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যার আসল পরিচয় প্রকাশ পেলে দেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদিকে শুধু আওয়ামী বিরোধিতার কারণে হত্যা করা হয়নি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ভারত এই খুনের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারকেও এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করেছিল কি না, দেশের মানুষ আজ তা জানতে চায়।” এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই দেশের সীমান্ত সিল করার কথা থাকলেও তা করতে রহস্যজনক বিলম্ব করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে খুনিরা অনায়াসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বলেন, যেখানে একটি বেসরকারি অনুসন্ধান সংস্থা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য খুনিদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারল, সেখানে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজধানীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত এলাকায় একজন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হলো, আর খুনিরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেল; অথচ গোয়েন্দারা তাদের অবস্থান পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারল না—এটি চরম ব্যর্থতা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। একই সাথে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের যে কথা বলছে, সেটিকে ‘ধোঁয়াশাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন তারা। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।