
জেবু দ্য ক্যাট
কখনো কখনো বড় খবরের আড়ালে ছোট, নরম এক গল্প লুকিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে আলোচনার এক কোণে উঠে এসেছে আরেকটি নাম—‘জেবু’। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের পোষা বিড়াল জেবু। সাত বছর বয়সী জেবু একটি সাইবেরিয়ান বিড়াল। জানা যাচ্ছে, জিয়া পরিবারের এই প্রিয় সদস্যটিও দেশের মাটিতে পা রেখেছে তাদের সঙ্গে। এই সূত্র ধরেই অনেকের কৌতূহল— জেবু আসলে কোন জাতের বিড়াল? আর সাইবেরিয়ান বিড়াল হলে সেটির বিশেষত্ব কী, কেনই বা সে এত আদরের?
প্রথম দেখাতেই আলাদা
সাইবেরিয়ান বিড়ালকে এক নজর দেখলেই বোঝা যায়— এটা সাধারণ কোনো বিড়াল নয়। ঘন, লম্বা লোমে মোড়া শরীর, বড় বড় চোখ, আর এক ধরনের রাজকীয় উপস্থিতি। দেখতে যতটা শক্তপোক্ত, স্বভাবে ঠিক ততটাই নরম।
এরা আসে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে— যেখানে শীত মানে শুধু ঠান্ডা নয়, বরফ আর তুষারের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। সেই পরিবেশেই গড়ে উঠেছে এই বিড়ালের শরীর ও স্বভাব।
লোমের ভেতরেই গল্প
সাইবেরিয়ান বিড়ালের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার লোম। এটি তিন স্তরের—উপরে জলরোধী লেয়ার, মাঝখানে উষ্ণতা ধরে রাখার স্তর, আর ভেতরে নরম আন্ডারকোট। তাই ঠান্ডা অঞ্চলে এরা সহজেই টিকে যায়।
লাইফস্টাইলের দিক থেকে বললে— এই লোমই এদের ‘স্টেটমেন্ট’। সোফায় বসে থাকলেও, জানালার পাশে ঘুমোলেও, সাইবেরিয়ান ক্যাট যেন ঘরের সাজের অংশ হয়ে যায়। তবে এই সৌন্দর্যের সঙ্গে দায়িত্বও আসে— নিয়মিত ব্রাশিং, পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি।

বড় শরীর, শান্ত মন
সাইবেরিয়ান বিড়াল আকারে বড়। পূর্ণবয়স্ক হলে এরা বেশ ভারী ও মাংসল হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—এই বড় শরীরের ভেতরে থাকে অসম্ভব শান্ত ও সহনশীল একটি মন।
এই জাতের বিড়ালরা সাধারণত—
• খুব বেশি চিৎকার করে না
• অকারণে আক্রমণাত্মক হয় না
• মানুষের পাশে থাকতে ভালোবাসে, কিন্তু জোর করে আদর চায় না
এক ধরনের পরিণত আচরণ আছে এদের মধ্যে— যা অনেকেই ‘elegant’ বলে বর্ণনা করেন।
পরিবারের সদস্য হিসেবেই মানায়
সাইবেরিয়ান বিড়াল একা থাকতে পছন্দ করে না, আবার সারাক্ষণ কোলে বসে থাকাও তাদের স্বভাব নয়। তারা মানুষের আশেপাশে থাকতে চায়— কিচেনে আপনি রান্না করলে চুপচাপ বসে থাকবে, বই পড়লে পাশে এসে শুয়ে পড়বে।
শিশুদের সঙ্গে এদের সম্পর্ক সাধারণত ভালো হয়। এরা ধৈর্যশীল এবং পরিস্থিতি বুঝতে পারে। জেবুর মতো বিড়াল তাই শুধু পোষা প্রাণী নয়—পরিবারের একজন নীরব সদস্য।

কুকুরের সঙ্গে কিছুটা মিল
অনেক সাইবেরিয়ান বিড়াল পালনকারী বলেন—এই বিড়ালদের আচরণে কুকুরের ছাপ আছে। ডাকলে সাড়া দেওয়া, দরজা পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া, খেলনা নিয়ে খেলা—সবই করে এরা।
কেউ কেউ লীশে হাঁটাতে পর্যন্ত সফল হয়েছেন। অবশ্য সব বিড়ালের স্বভাব এক নয়, কিন্তু সাইবেরিয়ান বিড়াল সাধারণত খুব ইন্টারঅ্যাকটিভ।
অ্যালার্জির ভয় তুলনামূলক কম
যারা বিড়াল পছন্দ করেন কিন্তু অ্যালার্জির ভয়ে রাখতে পারেন না—তাদের জন্য সাইবেরিয়ান ক্যাট আশার নাম। পুরোপুরি অ্যালার্জিমুক্ত না হলেও, এদের শরীরে অ্যালার্জি-সৃষ্টিকারী প্রোটিন তুলনামূলক কম থাকে। এই কারণেই ইউরোপ ও আমেরিকায় এই জাতের চাহিদা অনেক।
আবেগ বোঝার ক্ষমতা
সাইবেরিয়ান ক্যাট খুব সেনসিটিভ। মালিক মন খারাপ করলে, অসুস্থ হলে, এরা দূর থেকে সেটা বুঝে ফেলে। অনেক সময় কাছে এসে বসে থাকে—না ডাক দেয়, না বিরক্ত করে।
এই নীরব সঙ্গটাই অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় থেরাপি।
ঢাকার জীবনে কী মানিয়ে নিতে পারবে জেবু?
অনেকে ভাবেন—এত ঘন লোমের বিড়াল কি বাংলাদেশের মতো গরম দেশে থাকবে? উত্তর হলো—হ্যাঁ, সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত আছে:
• ভালো বাতাস চলাচল বা এসি
• পর্যাপ্ত পানি
• নিয়মিত গ্রুমিং
• ভারী খাবারের বদলে ব্যালান্সড ডায়েট
এরকম যত্নগুলো পেলে সাইবেরিয়ান ক্যাট শহুরে অ্যাপার্টমেন্ট জীবনেও বেশ সুখে থাকে।

জেবু কেন আলাদা হয়ে ওঠে
জাইমা রহমানের বিড়াল জেবু তাই শুধু ‘একটা বিড়াল’ নয়। দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনে সে ছিল সঙ্গী, নীরব বন্ধু। দেশে ফেরার সময় তাকে সঙ্গে আনার খবর মানুষকে ছুঁয়ে যায়—কারণ এখানে রাজনীতির বাইরেও একটা ব্যক্তিগত গল্প আছে।
একজন মানুষের জীবনে পোষা প্রাণীর জায়গা যে কতটা গভীর হতে পারে, জেবুর গল্প সেটাই মনে করিয়ে দেয়।












































