
নৈতিকতা ও ইনসাফের প্রশ্নে আপসহীন একজন মানুষ ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। কোটি কোটি টাকার অফার আমাদের সামনে আসতো, হাদি ভাই শুনলেই রেগে যেতেন বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে নানা আলাপ তোলা হচ্ছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য খুনের মাধ্যমে যে লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি, সেটি ভিন্ন পথে হাসিল করার চেষ্টা।
নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও ওসমান হাদি কোনো ব্যতিক্রম করেননি বলে জানান ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব। তিনি বলেন, হাদি ভাইয়ের ইমিডিয়েট বড় ভাই, ওমর ভাই। উনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন। শিক্ষক হওয়া তার স্বপ্ন ছিল। হাদি ভাই তার আপন ভাইয়ের ব্যাপারেও কোনো সুপারিশ করেননি কোনদিন।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে হাদি বরাবরই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। জাবের বলেন, হাদি ভাই সবসময় একটা কথা বলতেন—বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা খুব ভালো করেই জানে, ওসমান হাদিকে কারা ডোনেট করে, কত টাকা ডোনেট করে, কোন কাজে ডোনেট করে। এক টাকার দুর্নীতিও যদি তারা দেখাইতে পারে আমি ওসমান কোনোদিন আপনাদের সামনে আসবো না।
এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে এই আলোচনা কেন সামনে আনা হচ্ছে— তাও জানান ওসমান হাদির এই সহযোদ্ধা। তিনি বলেন, তাহলে হঠাৎ করে এই আলাপ কেনো! এই আলাপের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো— তারা ওসমান হাদিকে যেই উদ্দেশ্যে খুন করেছে সেইটা হাসিল হয়নি। উলটো ব্যাকফায়ার করছে।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জনগণ ওসমান হাদির এই ইনসাফের লড়াইকে, তার সাংস্কৃতিক লড়াইকে নিজের করে নিয়েছে। পুরো বিশ্বের বিপ্লবীদের মুখপাত্র হয়ে গেছেন গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলার মা ও মাটির আজাদির সন্তান ওসমান হাদি। এইটা খুনিরা নিতে পারতেছে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দুইটা জিনিস খুব কাজে দেয়— মানি এবং হানি। আজকে মানি নিয়ে কথা বলেছে। আগামীকাল হয়তো কোনো মেয়ে এসে বলতেও পারে— আমার গর্ভে ওসমান হাদির সন্তান। এইটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, যদিও এর কোনোটাই ওসমান হাদির বেলায় খুব একটা কাজে আসবে না। আমরা ওসমান হাদির খুনিদের বিচার চেয়েই যাবো। আমাদের আমৃত্যু ইনসাফের এই লড়াই চলবে…।




































