রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
সেতু ইসরাত আন্তর্জাতিক ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

৪২ বিলিয়ন ডলারের মালিক ৮৫ বছরের চকোলেট সম্রাজ্ঞী জ্যাকলিন মার্স 


jecqline mars

চকোলেট আর ক্যান্ডির স্বাদে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের শৈশব রাঙানো এক অনন্য সাম্রাজ্যের নাম ‘মার্স ইনকর্পোরেটেড’। আর এই বিশাল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান কর্ণধার হলেন ৮৫ বছর বয়সী মার্কিন ব্যবসায়ী ও মানবহিতৈষী জ্যাকলিন মার্স। 

বর্তমানে ৪২.৬ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) সম্পদের মালিক হয়ে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারীদের তালিকায় নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে রেখেছেন।

জ্যাকলিন মার্সের এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্পটি শুরু হয়েছিল আজ থেকে এক শতাব্দী আগে, তার দাদা ফ্রাঙ্ক সি. মার্সের হাত ধরে। ১৯১১ সালে ফ্রাঙ্ক ওয়াশিংটনের তাকোমা শহরে নিজের বাড়ির রান্নাঘর থেকে মাখন ও ক্রিম দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি বিক্রি শুরু করেন। সেই সাধারণ একটি পারিবারিক উদ্যোগই কালক্রমে রূপ নেয় একটি গ্লোবাল পাওয়ার হাউসে। ফ্রাঙ্কের পর তার ছেলে ফরেস্ট মার্স সিনিয়র ব্যবসার হাল ধরেন এবং উদ্ভাবনী কৌশলে ব্যবসাকে বহুগুণ বড় করেন। 

তিনি ম্যাল্ট-ফ্লেভারড নৌগাট এবং বিখ্যাত এমঅ্যান্ডএম-এর মতো ব্র্যান্ড বাজারে এনে মার্স ইনকর্পোরেটেডকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্ডি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

জ্যাকলিন মার্স কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ নিয়েই বসে থাকেননি। তিনি ব্রিন মার কলেজ থেকে নৃবিজ্ঞান (Anthropology) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৮২ সালে সরাসরি পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। 

টানা ২০ বছর তিনি কোম্পানির ফুড প্রোডাক্ট গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরিচালনা পর্ষদে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। তার মেধা ও নির্দেশনায় এমঅ্যান্ডএম, স্নিকার্স, রিগলি’স এবং টুইক্সের মতো চকোলেট ব্র্যান্ডগুলো যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি পেট ফুড বা পোষা প্রাণীর খাবারের বাজারেও ‘পেডিগ্রি’ ও ‘হুইস্কাস’-এর মতো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে কোম্পানিটি অভাবনীয় সফলতা পেয়েছে। 

বর্তমানে মার্স পরিবারের এই বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের লভ্যাংশ তিনি তার ভাই জন মার্স এবং চার ভাতিজির সাথে ভাগ করে নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রচণ্ড প্রচারবিমুখ এই নারী সাধারণ জীবনযাপনেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে তিনি ঘোড়সওয়ারি ও অশ্বারোহণ শিল্পের একজন বড় ভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অশ্বারোহী দলগুলোকে সহায়তার পাশাপাশি তিনি সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে থাকেন। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তার অবদান অনস্বীকার্য। 

২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি থেকে অবসর নিলেও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে তিনি এখনো পর্দার আড়ালে থেকে বিশ্বের এই অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন।