
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের বেশ কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও জোট শরিকরা। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী থাকা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কিন্তু যেসব আসনে জোট শরিকদের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সেখানেও বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের সমীকরণ জটিল হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষে তিনি বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে অনেক যোগ্য নেতা আছেন। অনেকেই মনে করেছেন, তাঁরা মনোনয়ন পেলে ভালো হতো। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে তা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বর দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম (নীরব) ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনসহ ৯ জনকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রুমিন ফারহানার এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। সাইফুল আলমকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা–১২ আসনের জন্য মনোনীত করা হলেও পরে ওই আসনটি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। আর পটুয়াখালী–৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে সমর্থন দেওয়ার পরও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা হাসান মামুন।
স্থানীয় পর্যায়ে এসব নেতার পক্ষে বিএনপির কর্মীদের বড় একটি অংশ অবস্থান নেওয়ায় জোট শরিকদের জন্য নির্বাচন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঠেকাতে যারা চায়, তারা নানা বাধা সৃষ্টি করবে। তবে সরকারকে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এ সময় তিনি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।










































