
ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামানো হলেও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া গত ১৩ দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শহরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, মেট্রো স্টেশন, ব্যাংক, বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন। কোথাও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে, ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করতে পারছে না।
গত ২৮ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ শতাধিক শহরে শিক্ষার্থী, তরুণ ও নারীরা রাস্তায় নেমেছেন। বিক্ষোভকে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। এ নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করছে বিক্ষোভকারীরা। তিনি দেশবাসীকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন জোরদারের ডাক দিয়েছেন এবং ট্রাম্পকে ইরানে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েল-ইরান সংঘাতজনিত ক্ষতি, ৪০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি, রিয়ালের অবমূল্যায়ন এবং দুর্নীতির অভিযোগ- সব মিলিয়ে ইরানিদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
বিক্ষোভের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি






































