সোমবার । মার্চ ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় ইইউ: ইয়র ইয়াবস


EU-observer

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে জটিল বলে মন্তব্য করেছেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইওএম) প্রধান ইয়র ইয়াবস। রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইয়র ইয়াবস বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলতে নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আঞ্চলিক দলসহ সব সামাজিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বোঝায়। আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে হলো বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতি, যা জনগণের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থার প্রতিফলন।

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের বিষয়টি বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে জটিল। তবে ভোটার উপস্থিতিতে এর প্রভাব পড়লে ইইউ সেটি বিবেচনায় নেবে।

এ পর্যন্ত দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মিশন প্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে দলগুলো সহিংসতামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়। নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কর্তৃপক্ষের তা মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে ইয়র ইয়াবস বলেন, ইসির স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা ইতিবাচক, তবে আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকার ও প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ- এসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ইইউর একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল কাজ করছে বলেও জানান মিশন প্রধান।

ইইউ ইওএম জানায়, ভোটের দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। দুই মাস পর দেওয়া হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আমন্ত্রণে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন কাজ শুরু করেছে। এতে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশ ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরা অংশ নিচ্ছেন। মিশনটি নির্বাচন প্রস্তুতি, প্রচারণা, আইনগত কাঠামো, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবে।