বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

২১৫ আসনে লড়বে জামায়াত, মিত্ররা পেল ৭৯টি


jamat

ছব: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীসহ ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মধ্যে আসন সমঝোতা অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৪টিতে জোটভুক্ত দলগুলোর একক প্রার্থী থাকবেন। বাকি ৬টি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যেখানে একাধিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ২১৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এসব আসনে ১০–দলীয় ঐক্যের অন্য কোনো দলের প্রার্থী নেই। তবে উন্মুক্ত রাখা আসনগুলোতে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা হলে জামায়াতের আসনসংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জামায়াত ছাড়া ঐক্যে থাকা অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৯টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১২টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২১৫টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিপরীতে জোটের অন্য কোনো দলের প্রার্থী থাকছে না। তবে দু–একটি আসনে এখনও অন্য দলের প্রার্থী থাকায় সেগুলো উন্মুক্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, উন্মুক্ত আসনগুলোর বেশিরভাগেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রয়েছে, পাশাপাশি এনসিপি ও এবি পার্টিরও কিছু প্রার্থী আছে। নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব আসনে সমঝোতা হতে পারে, আবার কিছু আসন শেষ পর্যন্ত উন্মুক্তও থাকতে পারে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, তাঁদের দল ২৯টি আসনে একক প্রার্থী দিচ্ছে। তবে মৌলভীবাজার–৪ আসনটি উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও রয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দলটি ২৯টি আসনে রিকশা প্রতীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীরা এককভাবে লড়বেন এবং ৬টি আসন উন্মুক্ত থাকবে। উন্মুক্ত আসনগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ–৩ ও কিশোরগঞ্জ–১ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে, মৌলভীবাজার–৪ ও নারায়ণগঞ্জ–৪ এনসিপির সঙ্গে, ফেনী–২ এবি পার্টির সঙ্গে এবং ফরিদপুর–৪ জামায়াতের সঙ্গে উন্মুক্ত রয়েছে।

খেলাফত মজলিস সূত্রে জানা গেছে, দলটির ৭২ জন প্রার্থীর মধ্যে শেষ সময় পর্যন্ত ৫৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে ১৯ জন প্রার্থী বহাল আছেন, যাদের মধ্যে ১২টি আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা ১০–দলীয় ঐক্যের একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। আগে চট্টগ্রাম–১৩ আসনে দলটির ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে জামায়াতের প্রার্থী থাকছেন।

এবি পার্টি সূত্র জানায়, ফেনী–২, বরিশাল–৩ ও পটুয়াখালী–১—এই তিন আসনে দলটির একক প্রার্থী থাকবে। সুনামগঞ্জ–৩ ও কুমিল্লা–৫ আসন উন্মুক্ত থাকছে, যেখানে এবি পার্টির প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্য দলের প্রার্থীরাও রয়েছেন।

উন্মুক্ত আসনগুলোতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সমঝোতা চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছে জামায়াত। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে প্রার্থীদের যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে উন্মুক্ত আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর আশা, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই এসব আসনেও সমঝোতা সম্পন্ন হবে।