বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১৪ সদস্যের দল পাঠাবে কমনওয়েলথ


Commonwealth

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই চার্টারের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য কমনওয়েলথ ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ.ই. নানা আকুফো-আদো।

নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডনে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের গঠন ঘোষণা করেন।

পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘোষণা দিতে গিয়ে কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, ‌‘বাংলাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের দল মোতায়েনের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। বাংলাদেশে আমাদের উপস্থিতি কেবল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালনই নয়, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।’

প্রতিনিধি দলের প্রধান আকুফো-আদোর সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের একটি দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।

মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন-
১. লেব্রেখটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, প্রেসিডেন্ট, ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপ, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা।
২. নীল ফিলিপ ফোর্ড, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কানাডা।
৩. মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, সমন্বয়ক, প্যাসিফিক ইয়ুথ কাউন্সিল, ফিজি।
৪. রাস আদিবা মোহদ রাদজি, সাবেক সিনেটর, মালয়েশিয়া।
৫. এইচ.ই. জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সাবেক উপমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মালদ্বীপ।
৬. মোহাম্মদ ইরফান আবদুল রহমান, নির্বাচন কমিশনার, মরিশাস।
৭. প্রফেসর ডেভিড জন ফ্রান্সিস, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সিয়েরা লিওন।
৮. সঙ্গীথা যোগেন্দ্রন, মানবাধিকার আইনজীবী, সিঙ্গাপুর।
৯. প্রফেসর ম্যান্ডলা মচুনু, সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন, দক্ষিণ আফ্রিকা
১০. ড. দিনেশা সমরারত্নে, অধ্যাপক, পাবলিক ও আন্তর্জাতিক আইন বিভাগ, আইন অনুষদ, কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রীলঙ্কা।
১১. প্রফেসর উইনিফ্রেড মেরি তারিনিয়েবা কিরিয়াবউইরে, সহযোগী অধ্যাপক (আইন), উগান্ডা।
১২. রোজমেরি আজাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাজ্য।
১৩. ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিনদানু, সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা, জাম্বিয়া।