শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক শিক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ঝুলে গেল ১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি


Ministry of Education

ফাইল ছবি

বিদায়বেলায় একসঙ্গে এক হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। মাত্র আট কর্মদিবসের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর তা অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকায় এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এক হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করলে সরকারি খরচ বছরে ৬৭০ কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া কিছু অনিয়ম ও ঘুষদানের অভিযোগও পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।

প্রাথমিকভাবে যোগ্যতা তালিকায় রয়েছে ৪৭১টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, ৭৮টি স্নাতক পাস কলেজ, ২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজ এবং ৩৫টি স্নাতকোত্তর কলেজ।

এই এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়াকে ‘নজিরবিহীন’ ও ‘রকেট গতিসম্পন্ন’ বলে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ আছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ২০–৪০ লাখ টাকার ঘুস লেনদেন হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষক প্রতি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সেগুলোকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে এসব অনিয়মের খবর আসার পর টনক নড়েছে সরকারের।

যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি কর্মকর্তারা ঘুসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ও অর্থ বিভাগের নেতিবাচক বার্তার কারণে আপাতত আলোর মুখ দেখছে না এই এমপিওভুক্তি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী জানান, নিয়ম মেনেই তালিকাটি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের শেষ সময়ে এসে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে চান না উপদেষ্টারা। তাই আপাতত এই প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।