
ফাইল ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ষষ্ঠ বারের মতো পিছিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এই দিন ধার্য করেন।
জানা যায়, এদিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে সময়ের আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকারী শরীফ ওসমান হাদী গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে ডিবি পুলিশ তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। তবে ডিবি পুলিশের সেই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
বাদীপক্ষের দাবি ছিল, ডিবি পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করেছে। এই প্রেক্ষিতে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে ‘নারাজি’ আবেদন দাখিল করা হলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
ডিবি পুলিশের দেওয়া আগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়াতেই পরিকল্পিতভাবে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা গ্রেফতার থাকলেও মূল রহস্য উদ্ঘাটনে সিআইডির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের পরিবার ও সহযোদ্ধারা।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারা দ্রুত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।








































