রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

আপনার একটি ভোট ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা


Chief-Adviser

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠনের পথ দেখাবে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় দেওয়া ভাষণে তিনি দেশবাসীকে ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত প্রজন্ম আজ প্রথমবার প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। নারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন এবং দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই নির্বাচন তাদের জন্য নতুন সূচনার সুযোগ।

প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাইকে মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না।

ভাষণে তিনি বলেন, প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যেদিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। আসন্ন নির্বাচনের দিনটি বাংলাদেশের জন্য তেমনই একটি ঐতিহাসিক দিন।

ড. ইউনূস বলেন, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে, এখন নাগরিকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের দায়িত্বশীল আচরণের ফলেই এই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কয়েকটি সহিংস ঘটনায় কিছু মূল্যবান প্রাণ হারাতে হয়েছে, যা জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

ড. ইউনূস বলেন, এটি শুধু একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। তিনি বলেন, রাজপথের দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হবে এবং এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।