রবিবার । মার্চ ৮, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

তুরস্কে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার


tarek-sabbir

তুরস্কে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

জীবিকার তাগিদে সুদূর তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে। কিন্তু সেই প্রবাসই তাঁদের শেষ ঠিকানা হলো। তুরস্কের কুর্দিস্তান আরবিল এলাকায় একটি প্লাস্টিক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একই পরিবারের বাবা ও ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে শয়নকক্ষ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের তারেক মিয়া (৪৫) ও তাঁর একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক মিয়া দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তুরস্কে ছিলেন। দুই বছর আগে তিনি ছেলে সাব্বিরকেও সেখানে নিয়ে যান। মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তারেক ও সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকর্মীদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, তুর্কি পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তারেক মিয়ার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর চার বছর আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার বাবা-ভাই কেউ বেঁচে নেই। এখন স্বামীকেও হারালাম। বিয়ের পর স্বামীকে সামনাসামনি কোনোদিন দেখিনি, শুধু ফোনেই কথা হতো।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তাঁরা।