শুক্রবার । মে ১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১ মে ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

ম্যাজিক মাশরুম কি আসলেই ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করতে পারে?


Magic Mashroom

ছবি: বিবিসি

ধূমপান ছাড়তে চান এমন মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও, সফলতার হার খুবই কম। কারণ নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর—অনেক ক্ষেত্রে কোকেন বা হেরোইনের মতোই শক্তিশালী। তাই প্রতি বছর চেষ্টা করা ধূমপায়ীদের মধ্যে ১০ জনে ১ জনেরও কম পুরোপুরি ধূমপান ছাড়তে পারেন।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সাইকেডেলিক পদার্থ—বিশেষ করে ম্যাজিক মাশরুমের উপাদান সাইলোসাইবিন (Psilocybin)—ধূমপান ছাড়তে নতুন পথ দেখাতে পারে।

২০১৭ সালের একটি জরিপে ৭৮১ জন অংশগ্রহণকারী জানান, ম্যাজিক মাশরুম গ্রহণের অভিজ্ঞতা তাদের ধূমপান কমাতে বা পুরোপুরি ছাড়তে সাহায্য করেছে। অনেকেই বলেছেন, এই অভিজ্ঞতার পর তাদের জীবনের মূল্যবোধ ও অগ্রাধিকার বদলে গেছে—এবং ধূমপান আর তাদের কাছে প্রয়োজনীয় মনে হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথু জনসন বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতার তীব্রতা এমন ছিল যে, ধূমপান ছাড়ার কঠিন মানসিক বাধা অনেকটাই ভেঙে যায়।’

২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কথোপকথনভিত্তিক থেরাপির সঙ্গে এক ডোজ সাইলোসাইবিন ব্যবহার করলে তা নিকোটিন প্যাচের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। ছয় মাস পর দেখা যায়, সাইলোসাইবিন নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার হার ছয় গুণ বেশি।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৫২ শতাংশ ছয় মাস পরও ধূমপানমুক্ত ছিলেন, যেখানে নিকোটিন প্যাচ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইকেডেলিক ড্রাগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আসক্তি চিকিৎসায় সম্ভাব্য উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে অ্যালকোহল আসক্তি কমাতে এলএসডি, আর ওপিওইড নির্ভরতা কমাতে ইবোগেইন নিয়েও গবেষণা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ উইসকন্সিন–ম্যাডিসন–এর মনোবিজ্ঞানী মেগার পিপারের মতে, ধূমপান বন্ধের নতুন ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০ বছরে আসেনি। তাই এই গবেষণা খুবই আশাব্যঞ্জক।

তবে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সীমিত ছিল এবং তারা বেশিরভাগই শিক্ষিত ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষ। ফলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এছাড়া সাইকেডেলিক পদার্থের ব্যবহার বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখনো অবৈধ এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

গবেষকরা আরও জানার চেষ্টা করছেন, ঠিক কীভাবে এই পদার্থ মস্তিষ্কে কাজ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মস্তিষ্কের ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ বাড়িয়ে নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে—অর্থাৎ দীর্ঘদিনের আচরণগত ধারা ভেঙে নতুন পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরের নতুন গবেষণা চলছে, যেখানে আরও বেশি অংশগ্রহণকারীর ওপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনো নিশ্চিত সমাধান নয়, তবে ধূমপান ছাড়তে সংগ্রামরত মানুষের জন্য একটি সম্ভাবনাময় নতুন পথ হতে পারে।

বিবিসি থেকে