
সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েতে সবজি পাঠানো কার্যত বন্ধ
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাতে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে রপ্তানি বাণিজ্য। এর ফলে রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কৃষকরাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
রপ্তানিকারকদের তথ্যমতে, গত মাসের শেষ দিক থেকে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েতের মতো প্রধান বাজারগুলোতে সবজি পাঠানো কার্যত বন্ধ। পচনশীল পণ্য হওয়ায় লাউ, পটল, ঢেঁড়স বা কাঁচা মরিচের মতো সবজি কার্গো বিমানে পাঠাতে হয়, কিন্তু নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এমনকি ইউরোপের বাজারে যে ৪০ শতাংশ সবজি রপ্তানি হয়, তার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ট্রানজিট নেয় বলে সেখানেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বর্তমানে মোট রপ্তানির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কার্যক্রম কোনোমতে সচল রয়েছে।
এই সংকটের সুযোগে ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো বাজার দখলের দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে সমুদ্রপথে মাত্র তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্যে সবজি পৌঁছানো সম্ভব হলেও বাংলাদেশের সেই অবকাঠামোগত সক্ষমতা নেই। এছাড়া উচ্চ বিমান ভাড়া এবং সরকারি প্রণোদনা ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরেই সবজি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৮.৬৪ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আকাশপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমুদ্রপথে সবজি পাঠানোর জন্য আধুনিক ‘কোল্ড চেইন’ ও বিশেষ কনটেইনার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শুধু কাঁচা সবজি নয়, ফ্রোজেন বা রেডি-টু-কুক সবজির বাজার ধরার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি না করলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি চিরতরে বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।






































