
ছবি: সংগৃহীত
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। সোমবার ইসরায়েলি ও হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান এই দাবিগুলো তুলে ধরেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তগুলো হলো:
১. ভবিষ্যতে আর কখনো যুদ্ধ শুরু হবে না—এমন শক্তিশালী নিশ্চয়তা দিতে হবে।
২. মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে।
৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যা মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৫. ইরানের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দিতে হবে অথবা বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া ‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলা লড়াইসহ অঞ্চলের সব যুদ্ধ বন্ধের অতিরিক্ত দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে টেনেসিতে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এবার ইরান বিষয়টি নিয়ে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনীর অসামান্য কর্মদক্ষতার কারণেই এই আলোচনা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে।”
তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরান একটি সুযোগ পেয়েছে। আমরা আশা করি তারা এটি কাজে লাগাবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়েছে।






































