বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে স্বজনদের অপেক্ষা-আহাজারি


daulodia-bus-accident

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আনন্দময় যাত্রা রূপ নিয়েছে বিষাদে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার এই ঘটনার পর থেকে সময় যত গড়াচ্ছে, নদীতীরে নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারি তত ভারী হয়ে উঠছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাসটিতে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে অভিযানে যোগ দেয় মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি ইউনিট। তবে রাত ৮টার পর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিনের কণ্ঠে ঝরছিল প্রিয়জনকে হারানোর হাহাকার। তিনি জানান, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে পাড়ে উঠতে পারলেও তার ছোট্ট মেয়েটি বাসের ভেতরেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে, গোয়ালন্দ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আওয়াল আনোয়ার তার বোনকে হারিয়েছেন; তার ভাগনে ও নাতি এখনো বাসের ভেতরে নিখোঁজ।

উদ্ধার কাজে দেরি হওয়া এবং প্রিয়জনের হদিস না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মর্জিনা ও রেহেনা নামে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও অন্তত ৪৫ জন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থলে বর্তমানে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর রশীদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য সহায়তার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম (নম্বর: ০১৭৩৩৩৩৬৪০৯) খোলা হয়েছে।

ঝড়ো আবহাওয়া ও পদ্মার তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ায় স্বজনদের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হচ্ছে।