রবিবার । মার্চ ২৯, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২৮ মার্চ ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইউরোপ যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ অভিবাসীর মৃত্যু


libya-boat

ফাইল ছবি

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূমধ্যসাগরের অন্যতম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছে একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’-এর একটি জাহাজ উদ্ধার অভিযানটি পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকায় চরম ক্লান্তি ও অনাহারে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)। বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মাঝপথে দিক হারিয়ে ফেলায় অভিবাসীরা চরম সংকটে পড়েন। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই ৫৫৯ জন অভিবাসী সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন নীতি কঠোর করার ঘোষণা দিলেও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক যাত্রা থামছে না, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।