
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মভিসা স্থগিত করায় তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখে পড়েছে জাপানের রেস্তোরাঁ ও খাদ্যসেবা শিল্প। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশটির বড় বড় ফুড চেইন ও ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশটি মূলত জাপানের জনপ্রিয় “টাইপ-১ স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার” ভিসার ওপর কার্যকর করা হয়েছে। দেশটিতে চলমান তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড চেইনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।
জাপানের প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশটির খাদ্যসেবা খাতে এই বিশেষ ভিসার আওতায় নিয়োজিত বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। যেখানে আগামী ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত এই খাতের জন্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ হাজার। নির্ধারিত কোটার কাছাকাছি চলে আসায় সরকার নতুন করে ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে। এতে বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, যোগ্য ও দক্ষ বিদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের পরিকল্পনা বাতিল করে অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমাতে পারেন।
জাপানের নামকরা বৃহৎ রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠান ‘স্কাইলার্ক হোল্ডিংস’ এবং ‘মোস ফুড সার্ভিসেস’ জানিয়েছে, নতুন এই বিধিনিষেধের কারণে তাদের নিয়মিত কর্মী নিয়োগ, নতুন শাখা খোলার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক রেস্তোরাঁ পরিচালনায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি এই শিল্পের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে যে, নতুন কর্মী না আসায় ইতিমধ্যে জাপানে থাকা বৈধ ভিসাধারী কর্মীদের ধরে রাখতে নিয়োগদাতাদের মধ্যে এখন অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের কাছে কর্মক্ষেত্র হিসেবে জাপানের আকর্ষণ কমে যাওয়ারও বড় ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্রমাগত কম জন্মহার এবং দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জাপানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে জাপানের অভিবাসন নীতি বেশ কঠোর হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় দেশটিকে সচল রাখতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ক্রমশ বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মভিসা স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত দেশটির সেবা খাতকে আরও বড় সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













































