রবিবার । এপ্রিল ৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু, মরদেহ দেশে আনতে পরিবারের আকুতি


kausar

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর তিন মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে ওমান পাড়ি দিয়েছিলেন চাঁদপুরের কচুয়ার সন্তান কাউসার হোসেন (৪০)। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

ওমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলেও এখন অর্থাভাবে বিদেশের মাটিতেই পড়ে আছে তাঁর মরদেহ। শেষবারের মত প্রিয়জনের মুখটুকু দেখা ও দেশে দাফনের জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে শোকাতুর পরিবারটি।

নিহত কাউসার হোসেন চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার নূর মিয়া সওদাগর বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে ওমানে যান তিনি এবং রুস্তাক শহরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৯ মার্চ কাজ শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ মার্চ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

কাউসারের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক চিলতে টিনের ঘরে বসবাস করা পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। কাউসারের স্ত্রী জান্নাত আক্তার বিলাপ করতে করতে জানান, তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। মেয়েরা শুধু শেষবারের মতো বাবার মুখটা দেখতে চায়। যেকোনো মূল্যে তারা মরদেহটি দেশে এনে দাফন করতে চান।

নিহতের বাবা আমির হোসেন ও মা মাহফুজা বেগম জানান, অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে ছেলেকে ওমানে পাঠিয়েছিলেন তারা। সেই ঋণের কিস্তি এখনো শেষ হয়নি, এর মধ্যেই এল ছেলের মৃত্যুর সংবাদ। এই অভাবের সংসারে বিদেশের মাটি থেকে মরদেহ ফিরিয়ে আনার মতো টাকা জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাউসারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে পিতৃৃহীন তিন কন্যাসন্তান ও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।