
ছবি: সংগৃহীত
পরিবারের অভাব দূর করে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল ১৯ বছরের তরুণ মোহাম্মদ আবু ফাহিমের। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই ঘর ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের এই তরুণ। কিন্তু উত্তাল ভূমধ্যসাগর সেই স্বপ্নকে গ্রাস করে নিল এক নিদারুণ ট্র্যাজেডিতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর সঙ্গে একটি নৌকায় করে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন ফাহিম। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং টানা ছয়দিন সাগরে ভেসে থাকে। এ সময় বৈরী আবহাওয়া, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
ফাহিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। সম্প্রতি লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে। সেখান থেকে আরও ভালো জীবনের আশায় বেছে নিয়েছিলেন বিপজ্জনক সাগরপথ। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার শেষ বার্তাটি এখন সবার চোখে জল আনছে।
মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন— দেশে থাকতে যিনি এক গ্লাস পানিও নিজে হাতে ঢেলে খাননি, প্রবাসের কঠিন বাস্তবতা তাকে আজ কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছে। তার সেই ফেসবুক পোস্টের কথাগুলো যেন হয়ে রইল চিরবিদায়ের সুর: ‘বোকা-সোকা আম্মুটাই দিনশেষে আমার জন্য কাঁদে, মন খারাপ করে, মন ভরে দোয়া করে।’
ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে মা হেলেনা বেগম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আর প্রলাপ বকছেন। অন্যদিকে, একমাত্র সন্তানের এই অকাল প্রয়াণের সংবাদ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা ফয়েজ উদ্দিন। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাহিমের মৃত্যুতে পুরো কবিরনগর গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ ফাহিমের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, “ইউরোপে গেলেই সব সুখ মিলবে— এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের তরুণদের বের হয়ে আসতে হবে। দালালের খপ্পরে পড়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না করে।”
ফাহিমের এই করুণ মৃত্যু আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার রঙিন স্বপ্ন আসলে কতটা ভয়ঙ্কর আর বিষাদময় হতে পারে।











































