
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেক সভা
নতুন সরকারের অধীনে প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা চলছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই একনেক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির এই সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই একনেকের প্রথম সভা, যেখানে চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদন দেয়া হতে পারে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে ১৮টি প্রকল্পের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন হতে পারে, যার মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প। এছাড়া, পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্পও বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাদ পড়েছে।
সভায় প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিলাসী বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চেয়ে চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ রোধে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সভায় নদী, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হচ্ছে। ১৭টি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯টি প্রকল্প একেবারে নতুন এবং বাকিগুলো সংশোধিত বা সময় বৃদ্ধির জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে। প্রাথমিক তালিকায় ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তাবিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ থাকলেও উচ্চ ব্যয়ের কারণে আপাতত তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
আজকের বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন, ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ৮ বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প এই বৈঠকে অবহিতকরণের জন্য পেশ করা হবে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বর্তমানে কঠোর ‘ব্যয় সংকোচন নীতি’ অনুসরণ করছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অর্থের অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার।




































