মঙ্গলবার । মে ৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৫ মে ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভারতে বিজেপির জোয়ারে আবার কি এক হচ্ছে বিরোধী শিবির?


India alliance

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর ভারতের বিরোধী জোট ‘INDIA’-এর মধ্যে নতুন করে সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে একই সময়ে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ও ডিএমকের সম্পর্ক ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর পরাজয়ের পর বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাম দলগুলোর অবস্থাও নাজুক। প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে এই প্রথম ভারতের কোনো রাজ্যে তাদের সরকার নেই। কংগ্রেসও খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই—কেরালায় জয় পেলেও আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে বড় ধাক্কা খেয়েছে।

এই ফলাফল বিরোধীদের নির্বাচনী ইস্যু যেমন ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বা সীমানা পুনর্বিন্যাস—ঠিকভাবে তুলে ধরতে না পারার দিকটিও সামনে এনেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেস তৃণমূলের দিকে হাত বাড়িয়েছে। রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভোট লুট’ অভিযোগকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ‘চুরি’ হয়েছে এবং এতে নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সহায়তা করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এরপর রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেন এবং কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে বার্তা দেন যে, এখন সময় একসঙ্গে লড়াই করার। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো এক দলের বিষয় নয়, এটি ভারতের গণতন্ত্রের প্রশ্ন।’

অন্যদিকে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে মমতা জানান, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এছাড়া সমাজবাদী পার্টির আখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, আরজেডির তেজস্বী যাদব, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-এর উদ্ভব ঠাকরেসহ একাধিক বিরোধী নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এখন তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেবেন। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে জোটকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

তবে তামিলনাড়ুতে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে কংগ্রেস অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল টিভিকে-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।

টিভিকে সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছে। রাহুল গান্ধীও বিজয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, তরুণ ভোটারদের মনোভাবের কথা বিবেচনা করে টিভিকে-কে সমর্থন করা উচিত।

তবে এমন সিদ্ধান্ত ডিএমকেকে ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং তারা ইন্ডিয়া জোট থেকে দূরে সরে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আস্থা ভোটে নিরপেক্ষ থাকার কথাও ভাবা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে বিরোধী জোটে নতুন করে ঐক্যের ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে কিছু রাজ্যে জোটের ভিত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।