
নির্মাতা ক্রিস্তফ দিমিত্রি
বিশ্বজুড়ে বিপ্লবের চিরন্তন প্রতীক চে গুয়েভারা। টি-শার্টের লোগো থেকে শুরু করে ঘরের দেয়ালের পোস্টার—সবখানেই তাঁর পরিচিত মুখচ্ছবি দেখা গেলেও, তাঁর সেই সহযোদ্ধাদের কথা আড়ালেই রয়ে গেছে যারা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চে-র পাশে থেকে লড়াই চালিয়েছিলেন। সেই অজানা অধ্যায় নিয়ে এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে আসছে নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘চে গুয়েভারা: দ্য লাস্ট কম্পেনিয়ন্স’। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফরাসি নির্মাতা ক্রিস্তফ দিমিত্রি রেভেইয়ের পরিচালনায় এই প্রামাণ্যচিত্রটি কান উৎসবের বিশেষ প্রদর্শনী বিভাগে প্রদর্শিত হবে। মূলত চে গুয়েভারার তিন সহযোদ্ধার জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই চলচ্চিত্র। বলিভিয়ায় চে গুয়েভারা নিহত হওয়ার পরও এই যোদ্ধারা দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকে লড়াই চালিয়ে যান। কঠিন পাহাড়ি পথ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর হাজারো বিপদের মুখেও তাঁদের টিকে থাকার সেই রোমাঞ্চকর ও যন্ত্রণাময় গল্প ফুটে উঠেছে পর্দায়।
নির্মাতা ক্রিস্তফ দিমিত্রি জানান, এই প্রামাণ্যচিত্রটি সম্পন্ন করতে তাঁর প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছে। শুরুতে তিনি চে গুয়েভারার মাত্র একজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে বাকিদের গল্পও তাঁর সামনে আসতে থাকে। নির্মাতার মতে, ইতিহাসে চে গুয়েভারার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও যাঁরা ছায়ার মতো পাশে থেকে লড়াই করেছেন, তাঁদের ত্যাগের কথা বিশ্ববাসী খুব কমই জানে।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে সাধারণ কৃষক পরিবারের তরুণরা কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কেউ নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়েছেন, কেউবা চোখের সামনে দেখেছেন স্বজনদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন। সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা থেকেই তাঁরা বিপ্লবের পথে হাঁটেন।
নির্মাতা ক্রিস্তফ দিমিত্রি আরও বলেন, তিনি চে গুয়েভারাকে একই সঙ্গে শ্রদ্ধা ও প্রশ্নের দৃষ্টিতে দেখেন। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্য সঠিক থাকলেও পৃথিবী বদলানোর পথ নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে এই যোদ্ধাদের বীরত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কান উৎসবে জায়গা পাওয়ায় নির্মাতা উচ্ছ্বসিত হলেও একটি বড় আফসোস তাঁকে পোড়াচ্ছে। ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র বেনিনিও বর্তমানে আর বেঁচে নেই; নিজের ও সহযোদ্ধাদের এই সাহসিকতার দলিলটি তিনি দেখে যেতে পারেননি।
চে গুয়েভারার মৃত্যুর এত বছর পরও তাঁর সংগ্রাম আর সহযোদ্ধাদের এই অজানা জীবনকাহিনী দর্শকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও আগ্রহের জন্ম দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।









































