বুধবার । মে ১৩, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৩ মে ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার

পদত্যাগের চাপে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, সম্ভাব্য বিকল্প যারা


UK

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও ওয়েস স্ট্রিটিং

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হলেও তিনি সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বরং প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, কেউ চাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারেন।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে দলের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ এমপির সমর্থন লাগবে। অর্থাৎ ৮১ জন এমপি কোনো এক প্রার্থীর পক্ষে একমত হলে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন।

যদিও প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ চেয়েছেন, এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হননি। তবে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

ওয়েস স্ট্রিটিং
বর্তমানে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিংকে দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে থাকা নেতাদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪৩ বছর বয়সী স্ট্রিটিংকে লেবার পার্টির মধ্যপন্থী ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের সভাপতি ছিলেন এবং পরে পূর্ব লন্ডনের একটি আসন থেকে এমপি হন।

স্ট্রিটিং সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের রাজনীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) সংস্কারে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে লেবার নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ম্যান্ডেলসনের নাম জড়িয়েছে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে স্টারমারের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি নন, ফলে এখনই তিনি লেবার নেতৃত্বের দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নামতে পারছেন না। এ বছর ম্যানচেস্টারের কাছের একটি আসনে সংসদে ফেরার চেষ্টা করলেও দলীয় নির্বাহী কমিটি তাতে সমর্থন দেয়নি।

বেশিরভাগ জনমত জরিপে বার্নহ্যাম বর্তমানে ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিকদের একজন। তিনি ‘ম্যানচেস্টারিজম’ নামে এক ধরনের ব্যবসাবান্ধব কিন্তু সমাজকল্যাণমুখী নীতির পক্ষে। তার লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোকে আবার সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা। ম্যানচেস্টারে তার নেতৃত্বে অর্থনীতি দ্রুত বেড়েছে এবং তিনি টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে জাতীয় রাজনীতিতে তার আগের দুইবারের লেবার নেতৃত্ব নির্বাচন খুব একটা সফল হয়নি। এছাড়া গত বছর বন্ড মার্কেট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

অ্যাঞ্জেলা রেইনার
স্টারমারের সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় আছেন। ৪৬ বছর বয়সী রেইনার দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন এবং মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন। তিনি বৃদ্ধদের সেবাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন।

রেইনারের সহজ-সরল ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব তরুণ ভোটার এবং বামপন্থী সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়। সম্প্রতি স্টারমারকে লেখা এক চিঠিতে রেইনার বলেন, ‘আমরা যা করছি তা কাজ করছে না। পরিবর্তন দরকার। হয়তো এটাই আমাদের শেষ সুযোগ।’

আলোচনায় আরও কিছু নেতার নাম আসছে।
শাবানা মাহমুদ
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে লেবার পার্টির উদীয়মান তারকা বলা হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর অবস্থান দলের ডানপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এড মিলিব্যান্ড
জ্বালানি সচিব এবং লেবার পার্টির সাবেক নেতা এড মিলিব্যান্ডও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। দলীয় সদস্যদের মধ্যে, বিশেষ করে জলবায়ু সচেতন শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী ও ট্রেড ইউনিয়ন সমর্থকদের কাছে মিলিব্যান্ড বেশ জনপ্রিয় বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

তবে, বর্তমানে স্টারমারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়লেও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ এখনো শুরু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দলের ভেতরের চাপ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহে লেবার পার্টিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।