শনিবার । মে ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৩ মে ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

শিশুদের ওপর নৃশংসতা বন্ধের আহ্বান ইউনিসেফের


UNICEF

শিশুদের ওপর নৃশংসতা বন্ধের আহ্বান ইউনিসেফের

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুর প্রতি নির্মম সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিকার)। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে, ‘শিশুদের ওপর এই নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!’

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সামাজিক প্রশ্ন ও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া ভয়াবহ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার মাসে ১১৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ শিশুকে এবং ধর্ষণের শিকার দুই শিশু ক্ষোভে-দুঃখে আত্মহত্যা করেছে।

এছাড়া, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনার জেরে খুন হয়েছে আরও ১১৫টি শিশু। সম্প্রতি রাজধানীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভ চলছে, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরোলো আহ্বান জানাল।

বিবৃতিতে ইউনিসেফ স্পষ্ট করে বলেছে যে, বাংলাদেশজুড়ে সম্প্রতি ছেলে ও মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে যে ধরনের ভয়াবহ ও জঘন্য সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যেখানে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানে তাদের এই পরিণতিতে ইউনিসেফ গভীরভাবে শোকাহত এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।

সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালে এসেও এভাবে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস ও যৌন সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার এই চিত্র প্রমাণ করে যে, দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা এখনও কতটা দুর্বল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’র অবসান ঘটাতে হবে।

অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার দীর্ঘদিনের ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া নারী ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করাসহ স্কুল, মাদরাসা, কর্মস্থল ও পাড়া-মহল্লার জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের সবাইকে একযোগে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, কোনো সম্প্রদায় বা সমাজ যদি এসব অন্যায় দেখে নীরব থাকে, তবে সহিংসতা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই শিশু, নারী ও পরিবারের সদস্যদের উচিত যেকোনো নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা চেপে না রেখে তা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনা বা শিশু সহায়তা হেল্পলাইন নম্বর ‘১০৯৮’-এ যোগাযোগ করা। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের সামাজিক মর্যাদা এবং মানবিক অধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা আরও একটি বড় অপরাধ বা নির্যাতনের শামিল। যারা এগুলো শেয়ার করেন, তারা মূলত ভুক্তভোগীদের মানসিক আঘাত ও পরিবারের ট্রমাকে আরও বাড়িয়ে দেন। তাই সাধারণ জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, প্রতিটি শিশুর সর্বত্র সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।

তাই জনপরিসরে বা ইন্টারনেটে তাদের গল্প ও ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে হবে এবং যেকোনো বিতর্কিত বিষয় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।