শনিবার । মে ২৩, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৩ মে ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে ‘গুরুতরভাবে বিবেচনা’ করছেন ট্রাম্প


ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে ‘গুরুতরভাবে বিবেচনা’ করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি ‘গুরুতরভাবে বিবেচনা’ করছেন। শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক আলোচনায় সমঝোতা না এলে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২২ মে) সকালে ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। একই সময়ে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরান সফর করেন। তার সঙ্গে কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও ছিল। তারা সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন—এমন কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার (২৩ মে) জেনারেল আসিম মুনির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভাহিদি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি খুব ধীর বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, খসড়া প্রস্তাব প্রতিদিন আদান-প্রদান হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে না।

শুক্রবারের বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসসহ অন্য কর্মকর্তারা।

হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “ইরান চুক্তি করতে মরিয়া। কী হয় দেখা যাবে। তবে আমরা তাদের কঠিনভাবে আঘাত করেছি। আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। কারণ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।”

এদিকে সুইডেনে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় “সামান্য অগ্রগতি” হয়েছে। তবে তিনি অগ্রগতিকে অতিরঞ্জিত করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দেন ট্রাম্প। এর আগে নিউ জার্সির বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবে সপ্তাহান্ত কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাতিল করে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে যান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, সরকারি পরিস্থিতির কারণে তিনি ছেলে ডন জুনিয়রের বিয়েতেও অংশ নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার ওয়াশিংটনে থাকা প্রয়োজন।”

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত কয়েকদিনে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ধীরগতিতে ট্রাম্প ক্রমেই হতাশ হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলবার তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে চাইলেও বৃহস্পতিবার রাত নাগাদ সামরিক হামলার দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট একটি “চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক” সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। এরপর তিনি বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধের ইতি টানতে পারেন।