শনিবার । মে ২৩, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৩ মে ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে কে?


Avijit-Cockroach

ছবি: এনডিটিভি

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘প্যারাসাইট’ ও ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে আলোচনায় এসেছে ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপি চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে দলটির অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি, যা ভারতের অনেক মূলধারার রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি। এছাড়া এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দলটির অনুসারী ছিল দুই লাখের বেশি। তবে আইনি নির্দেশনার কারণে বৃহস্পতিবার ভারতে অ্যাকাউন্টটি অকার্যকর হয়ে যায়।

জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে পুনেতে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস (জনসংযোগ) বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে মিমভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারণাতেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিজেদের ওয়েবসাইটে এমন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, যারা “ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে যাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব” করে। দলটি নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” বলেও দাবি করে।

দলের ওয়েবসাইটে সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— আবেদনকারীকে হতে হবে “বেকার, অলস এবং সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয়”, পাশাপাশি থাকতে হবে “পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশের দক্ষতা”।

মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, মিম ও সামাজিক মন্তব্যের মাধ্যমে দলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা সংকটসহ তরুণদের নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি করা কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যাদের কোনো চাকরি নেই বা পেশায় জায়গা নেই। কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ শুরু করে।”

পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, মন্তব্যটি ছিল “ভুয়া ও বোগাস ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় আসা কিছু ব্যক্তিকে” উদ্দেশ করে।

সূত্র: এনডিটিভি