
ফাইল ছবি
আসন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের ট্যানারিমালিকেরা এবার ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার কোরবানির চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। গত বছর ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ পিস চামড়া সরাসরি কিনেছিলেন ট্যানারিমালিকেরা।
চামড়া সংগ্রহ মৌসুমকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তিনটি ব্যাংক মোট ১৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকও সীমিত পরিসরে ঋণ দিয়েছে। তবে পুরোনো ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ী নতুন ঋণ পেলেও অনেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যানারিমালিকেরা বলছেন, এই ঋণ পর্যাপ্ত নয়। তাঁদের দাবি, প্রায় এক দশক আগে হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগর স্থানান্তরের পরও পরিবেশদূষণ সমস্যার সমাধান হয়নি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার রপ্তানি মূল্যে। ব্যবসা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ট্যানারি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে এবং নতুন ঋণ পেতেও সমস্যায় পড়ছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চামড়া খাতের মোট ঋণের ৬৫ শতাংশ চলতি মূলধন হিসেবে দেওয়া হয়, যা সারা বছর ব্যবহার ও সমন্বয় করা যায়। বাকি ৩৫ শতাংশ দেওয়া হয় শুধুমাত্র কোরবানির চামড়া কেনার জন্য।
সোনালী ব্যাংক একাধিক আবেদন পেলেও শুধুমাত্র ভুলুয়া ট্যানারিকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বলেন, “অনেকে আবেদন করলেও ঋণ পাওয়ার উপযোগী ছিল মাত্র একটি ট্যানারি।”
রূপালী ব্যাংকের দুই গ্রাহক নতুন ঋণের আবেদন করলেও আগের ঋণের সীমা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় তাঁরা নতুন ঋণ পাননি।
অগ্রণী ব্যাংক দুই গ্রাহককে মোট ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে এপেক্স ট্যানারি পেয়েছে ৪৫ কোটি টাকা এবং বে ট্যানারি পেয়েছে ৩০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে জনতা ব্যাংক মোট ৬০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৫২ কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৮ কোটি টাকার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত গ্রাহকেরা ২ কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন। অবশিষ্ট অর্থ ঈদের পর নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।ব্যাংক বীমা
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এবার তুলনামূলক কম পশু কোরবানি হতে পারে বলে আমরা মনে করছি। তাই ৭৫–৮০ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চামড়ার মান ভালো হলে সরকার নির্ধারিত দামই দেওয়া হবে। তবে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।”













































