
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বহু শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের (২৬ মে) হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বুর্জ আল-শামালি, বেকা উপত্যকা এবং ক্বারাউন বাঁধের আশপাশে চালানো হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জাতিসংঘ-স্বীকৃত সীমান্তের উত্তরে তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” অতিক্রম করে নতুন এলাকাগুলোতে স্থল অভিযান সম্প্রসারণ করেছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েলি অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে ড্রোন, রকেট ও আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও উচ্ছেদের নির্দেশে জনমনে চরম ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বারবার জারি করা ব্যাপক উচ্ছেদ নির্দেশ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চললেও মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।









































