
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)। তবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই ভোটের তাৎক্ষণিক কোনো বাস্তব প্রভাব পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২১৫ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে এবং ২০৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাবটির মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনহীন সামরিক অভিযান বন্ধ করার ক্ষমতা দেয়।
ডেমোক্র্যাট সদস্যদের নেতৃত্বে আনা এই প্রস্তাবে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী। তাদের দাবি, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের হাতে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযান কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই পরিচালনা করা আইনসঙ্গত ছিল।
এদিকে ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেও যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
কেন এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ?
এটি ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রথম সফল পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কংগ্রেস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তবে আইনটি কার্যকর করতে হলে প্রস্তাবটি সিনেটেও পাস হতে হবে। সেখানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পথটি সহজ নয়।
দুই সপ্তাহ আগে সিনেটে একই ধরনের একটি উদ্যোগে ভোটাভুটিতে ৫০-৪৭ ভোট পড়লেও প্রয়োজনীয় সমর্থন মেলেনি। চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিলেও তা যথেষ্ট ছিল না।
তবে সিনেটে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসকে ভেটো অগ্রাহ্য করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র কি এখনো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে?
এ প্রশ্ন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় যুদ্ধে নেই।
গত ১ মে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতির ফলে শত্রুতা সমাপ্ত হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের বিরুদ্ধে বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানি জাহাজে হামলা করেছে। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের বাধা বজায় রেখেছে। ফলে বাস্তবে উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন মনে করলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার করতে পারেন।
তার যুক্তি, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির ফলে আগের সময়সীমা নতুন করে গণনা শুরু হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে প্রেসিডেন্টের কাছে এখনও আইনি সুযোগ রয়েছে।
ফলে প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হলেও, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।











































