
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোনে’র তার চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই ঘটনায় সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মী এবং এক ভাঙারি ব্যবসায়ীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সড়ক ও মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৬) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।
ডিএমপি কমিশনার জানান, সচিবালয়ের ওই ভবন থেকে রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোনের তামার তার চুরি করে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিলেন ওই আউটসোর্সিং কর্মী। আজ দুপুরে তদন্তকারী দল চুরির এই রহস্য উদ্ঘাটন করে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোড এলাকার একটি ভাঙারি গুদামে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার উদ্ধার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আজ দুপুরে রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন চুরির দায় স্বীকার করে জানান, গত ২২ মে শুক্রবার (কোরবানির ঈদের ছুটির মধ্যে) সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তামার তার চুরি করেন। এর তিনদিন পর সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করে দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুলকে গ্রেপ্তার ও তার উদ্ধার করা হয়।
এবারের কোরবানির ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে গত সোমবার অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, অতি গুরুত্বপূর্ণ ওই লাল টেলিফোনে কোনো সংযোগ নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।
বিটিসিএলের একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানান, এই লাল টেলিফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলতে পারেন।
এই ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে সোমবার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের পুরাতন ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত কপার কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ভবনের ছাদে সেই কপার কেবল কেটে ফেলায় এই মারাত্মক বিভ্রাট ঘটেছিল।









































