
প্রতীকি ছবি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রতিটি দলের ২৬ সদস্যের পুরো স্কোয়াডকেই মাঠে দেখা যাবে। বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় ও আবেগঘন করে তুলতে এমন নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।
এতদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয় সংগীতের সময় কেবল শুরুর একাদশ মাঠে উপস্থিত থাকতেন। বদলি খেলোয়াড়রা কোচিং স্টাফদের সঙ্গে মাঠের বাইরে বা সাইডলাইনে অবস্থান করতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই প্রচলিত নিয়ম বদলে যাচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় সংগীত চলাকালে খেলোয়াড়রা দর্শকদের দিকে মুখ করে না দাঁড়িয়ে সেন্টার সার্কেলের চারপাশে অবস্থান নেবেন। প্রথম একাদশের পাশাপাশি বদলি বেঞ্চের ১৫ জন খেলোয়াড়ও মাঠে এসে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেবেন।
ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, এই আয়োজন বিশ্বকাপের আবেগ, ঐক্য এবং দলের সম্মিলিত পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপ শুধু মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের নয়; এটি পুরো দল এবং কোটি কোটি সমর্থকের উৎসব। নতুন এই উপস্থাপনা সেই বার্তাই বহন করবে।
শুধু জাতীয় সংগীতের অনুষ্ঠানেই নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও বেশ কিছু নতুনত্ব দেখা যাবে। এরই মধ্যে ফিফা জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সুপার বোলের আদলে বিশেষ হাফটাইম শো আয়োজন করা হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান সংগীত তারকারা অংশ নেবেন।
আগামী আসরটি হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। ৪৮টি দল অংশ নেবে ১০৪ ম্যাচের এই মহাযজ্ঞে। আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—প্রত্যেকটিতেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মাঠের খেলাতেও আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। কর্নার কিক এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি গোল কিক ও থ্রো-ইনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের পানীয় বিরতিও রাখা হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপকে শুধু ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং আরও বড় একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া-উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ফিফা।









































