
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাত থামাতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পেয়ে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পুনরায় চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পান। তবে সোমবার সকালে পরিষদের একটি সরকারি সাহায্য বিতরণ অনুষ্ঠানে ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের সাথে তার তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করে।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ইউপি কার্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।













































