মঙ্গলবার । জুন ৯, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৯ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


Salauddin parliament

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরাসরি আইনের আওতায় আনতে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও মোকাবিলায় নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আলোচনায় হেলেন জেরিন খান অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অসংখ্য অ্যাকাউন্ট ও পেজ সংগঠিতভাবে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী-সন্তানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সবকিছুই প্রকৃত অর্থে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি না, তা নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সাইবার আইন সংস্কারের খসড়া প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সংশোধিত আইনটি ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ নামে উপস্থাপন করা হবে। এতে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি এসব কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আইনে এমন কোনো বিধান নেই, যার মাধ্যমে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করা যায়। তবে নতুন আইনে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার, রিপোর্ট করা কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা এবং এ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান রাখা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল