
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নৈতিক মনোবল ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত তিনটি ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। এর ফলে পুলিশ সদস্যরা আরও আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত হবেন।
তিনি জানান, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিল, দৌলতদিয়া ঘাটে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর প্রাণরক্ষায় সাহসী ভূমিকা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যা মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ১৫ পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাহিনীকে ঘিরে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ জনগণের আরও কাছাকাছি এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান।
অপরাধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার কমেছে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
মামলা তদন্তে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম, ময়নাতদন্ত এবং পুলিশি টহলকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের প্রতি নমনীয়তা দেখানো হবে না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অবদান রাখা ১৫ জন পুলিশ সদস্যের হাতে সম্মাননাপত্র ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস











































