রবিবার । জুন ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২১ জুন ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল করল ইসি


Election Commission

ফাইল ছবি

প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথ না থাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য পাঠানো ২২ হাজার ৩৫২ জন প্রবাসী বাংলাদেশির আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আবেদন বাতিল হলেও প্রবাসীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই, নিয়ম মেনে তাঁরা আবারও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ইসির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসির প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বায়োমেট্রিক দিয়েছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন।

বাকি আবেদনগুলোর মধ্যে ১০ হাজার ১৪১টি সার্ভারে আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ৩৭ হাজার ১৬টি আপলোড সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ হাজার ১৮টি এনআইডি প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে এই ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম সচল রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে (২৩ হাজার ৯৪০টি) এবং সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে (১২৬টি)। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১৭ হাজার ৩০টি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬ হাজার ৮১২টি, ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি, সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি, জাপান থেকে ৩০৯টি এবং মালদ্বীপ থেকে ২৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র [ফরম-২(ক)]-এর সাথে কিছু নথি বাধ্যতামূলকভাবে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদসহ বা মেয়াদহীন বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিনজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যয়নপত্র, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

তবে চট্টগ্রামের বিশেষ ৫৬টি উপজেলা বা থানার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে ‘বিশেষ তথ্য ফরম’, শিক্ষা সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি (মৃত হলে মৃত্যু সনদ), ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, নাগরিকত্ব সনদ এবং ইউটিলিটি বিলের কপিসহ কিছু বাড়তি কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীরা অনলাইনে ফরম পূরণ করার পর নির্বাচন কমিশন ওই ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার উপজেলায় তদন্ত পাঠিয়ে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে। তদন্তে সব ঠিকঠাক পাওয়া গেলেই কেবল আবেদন অনুমোদন করে এনআইডি প্রিন্ট করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।