বৃহস্পতিবার । জুন ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৪ জুন ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার

পাবনায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ হেফাজতে স্বামী


pabna-news

ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী সৌদি প্রবাসী হুমায়ুন কবির সরদারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে দোগাছি এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম পাপিয়া খাতুন (৩৪)। সে একই এলাকার আব্দুর রশিদ শেখের মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে পাপিয়ার সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বিয়ে হয়। হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং গত কোরবানির ঈদের আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি হুমায়ুন কবির অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত মঙ্গলবারও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং রাতেও তাঁদের বাসা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

স্থায়ীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাপিয়াকে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে দেখা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের চাচা আসলাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “পাপিয়া নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। তিনি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। পাপিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।” এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, “ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে তদন্তের স্বার্থে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।”