মঙ্গলবার । জুন ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৩ জুন ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


tista

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া এবং টানা ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম বন্যা আতঙ্কে দিন পার করছেন। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষকরা জানান, তিস্তা তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ইতিমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে যেকোনো সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালিরমেলা এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে যখন চাষাবাদের জন্য পানির হাহাকার থাকে, তখন ভারত গেট বন্ধ রাখে। আর বর্ষায় হঠাৎ গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিয়ে বাংলাদেশ অংশকে চরম দুর্ভোগে ফেলে দেওয়া হয়।

হঠাৎ পানি চলে আসায় চরাঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই তড়িঘড়ি করে কাঁচা বা আধা-পাকা বাদাম তুলে নিচ্ছেন। এছাড়া পাটক্ষেতসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেতে ইতিমধ্যেই বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার কিছুটা নিচে থাকলেও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।