মঙ্গলবার । জুন ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৩ জুন ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিষিদ্ধ আ.লীগের তৎপরতা ঠেকাতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা


army

ফাইল ছবি

আজ ২৩ জুন (মঙ্গলবার), রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাজপথে দলটির কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ না থাকলেও, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দলটির সম্ভাব্য যে কোনো ‘আকস্মিক তৎপরতা’ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক কিছু ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ রাজধানীসহ দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে রাজপথে থাকার কথা জানিয়েছে বর্তমান সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলোর নানা রাজনৈতিক সংগঠন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গতকাল সোমবার থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন মহানগর ও তিন জেলায় স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাগুলো হলো—ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর ও গাজীপুর মহানগর এবং গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা।

পাশাপাশি গাজীপুর, মাদারীপুর, শেরপুর, মৌলভীবাজার ও কক্সবাজার জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা ও বিজিবি সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাতেও তাৎক্ষণিক মোতায়েনের জন্য বিজিবি সদস্যদের ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আজ রাজধানীজুড়ে অন্তত ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সোমবার থেকেই রাজধানীর ২০০টিরও বেশি কৌশলগত পয়েন্টে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বহিরাগত বা সন্দেহভাজনদের প্রবেশ ঠেকাতে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে চলছে কড়া তল্লাশি।

নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে ডিবি ও সিটিটিসি। এছাড়া আগাম নাশকতার তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি)। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য ডিএমপির ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং প্রধান কন্ট্রোলরুমগুলোতে পর্যাপ্ত ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই ধরণের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে দেশের অন্যান্য রেঞ্জ, মহানগর ও জেলাগুলোতেও।

গতকাল সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল বা সমাবেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির কিছু অপচেষ্টা সরকারের গোচরীভূত হয়েছে। তারা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন একটি নিয়মিত আইনি ও রুটিন প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকার্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেষ না হওয়া পর্যন্ত গত বছরের ১২ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গ-সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে এবং চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাসের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়।

প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সুযোগ না থাকায় বর্তমানে দলটি অনলাইনে বা নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম ও মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির পক্ষ থেকে রাজপথে নামার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখা যায়নি।