মঙ্গলবার । জুন ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিনোদন ২৩ জুন ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল


Salman-Shahমৃত্যুর তিন দশক পর চিত্রনায়ক সালমান শাহের ‘খুনের রহস্য’ উদঘাটনে তাঁর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছে আদালত। মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ লাশ উত্তোলনের আবেদন করলে ২৪ মে আদালত তা মঞ্জুর করেছিল। তবে ১০ জুন বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই ধর্মীয় অনুভূতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও লাশের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই আদেশ বাতিলের আবেদন করেন বাদী।

আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ঘটনার পর ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে একবার সালমান শাহর লাশ তোলা হয়েছিল, যা সে সময়ই মাত্রাতিরিক্ত পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বর্তমানে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে থাকা এই দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তা ছাড়া বারবার লাশ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে এবং মাজার প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি করতে পারে। এই যুক্তিতে বাদী আলমগীর কুমকুম এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর তীব্র আপত্তির মুখে আদালত পূর্বের আদেশটি বাতিল করে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান তৎকালীন তুঙ্গে থাকা এই নায়ক। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে ১৯৯৭ সালে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছরে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পিবিআই—সব সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনেই সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে জানায়, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

তবে এসব প্রতিবেদন বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে ‘নারাজি’ দিয়ে আসছে সালমান শাহর পরিবার। সর্বশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাঁর মামা। সেই মামলারই তদন্তের অংশ হিসেবে লাশ তোলার এই আদেশ ও পরবর্তীতে তা বাতিলের ঘটনা ঘটল। আজ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিনও ধার্য রয়েছে।