
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার ইসলামাবাদে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফ্রেবুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ার পর এই সফর হচ্ছে পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। এর আগের দিনই পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রথম ধাপে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ তৈরির ঘোষণা এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের সময় নির্বাচন কোনো কাকতাল নয়। নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির পর পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে এসে সেই অর্জনকে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চাইছেন।
ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু সময় উত্তেজনাও ছিল। ২০২৪ সালের শুরুতে সীমান্ত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পাকিস্তান শুধু মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি সক্রিয় রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে উঠে আসছে। সুইজারল্যান্ডের আলোচনার পাশাপাশি ইসলামাবাদ এখন রাজনৈতিক আস্থার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
সফরকালে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জানা গেছে, আলোচনায় থাকবে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা, বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের পর পেজেশকিয়ান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে পাকিস্তান সফর করেছিলেন। তখন দুই দেশ ১২টি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং বার্ষিক বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বর্তমান সফর ইরানের জন্য কূটনৈতিকভাবে একটি ‘রাজনৈতিক বার্তা’—যেখানে দেখানো হচ্ছে যে ইরান চাপের মধ্যে না থেকে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের জন্যও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশটির আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আরও দৃঢ় করছে।
সব মিলিয়ে, পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয়—বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।







































