cosmetics-ad

শাহজালালে মশার উৎপাতে দিশেহারা বিমানযাত্রীরা

sahjalal-biman
বিমানের ভেতরে মশা তাড়ানোর চেষ্টা কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের

সিলেটের বাসিন্দা মুহী মিকদাদ। গত ৪ মার্চ একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সে ঢাকা থেকে সিলেট যান। ফ্লাইটের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লাইটের বেশিরভাগ যাত্রী মশা তাড়াতে হাত নাড়াচ্ছেন। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। কেবিন ক্রুরা অ্যারোসল স্প্রে, ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে মশা তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাতেও কাজ হচ্ছে না। ফ্লাইটে ভনভন করে উড়ছে মশা।

নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ফ্লাইটের যাত্রী মিকদাদ তার ফেসবুকে লেখেন, ‘খুব বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। ঢাকা থেকে সিলেটগামী প্লেনটির সব যাত্রীই মশার উৎপাতে দিশেহারা। পুরো ফ্লাইটের অধিকাংশই বিদেশী যাত্রী, এ অবস্থা দেখে তারা খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। কর্তৃপক্ষের উচিত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া।’

এ রুটে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীদের মতে, এ চিত্র নতুন নয়। প্রতি বছর এমন সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মশার উপদ্রব বাড়ে। গত তিন বছর ধরে বিমানবন্দরে মশার উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরেজমিন গত ১০ মার্চ, মঙ্গলবার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ (ডমেস্টিক) টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, উভয় টার্মিনালের ভেতরেই কম-বেশি মশার উপদ্রব। আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ইমিগ্রেশন, কনভেয়ার বেল্ট, কাস্টমস হল, গ্রিন চ্যানেল— সব জায়গাতেই মশার উৎপাত। বহির্গমন টার্মিনালের ডিউটি ফ্রি দোকানিরা জানান, মশার উৎপাতে বসা যায় না। প্রতিটি ডিউটি ফ্রি শপে নিজস্ব উদ্যোগে অ্যারোসোল দেয়া হয়। তারপরও মশা কমছে না।

বিমানবন্দর ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিমানবন্দরের যেকোনো জায়গা থেকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে মশার উৎপাত সবচেয়ে বেশি। এ টার্মিনালের ভেতরের বোর্ডিং গেট এবং বাইরে ভরাট হওয়া লেকের পাশে মশার ঝাঁক। উভয় টার্মিনালের বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ে অপেক্ষারত চালকদের মশার কয়েল জ্বালিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

শাহজালালের রানওয়েতে কর্মরত এক ট্রাফিক অফিসার জানান, প্রতি বছর বর্ষার আগে এখানকার ঝোপঝাড় কাটা হয়, নালাগুলো পরিষ্কার করা হয়। তবে এ বছর এগুলো কাটার আগেই মশার উৎপাত বেড়ে গেছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মশা নিয়ন্ত্রণে এখানে দিনে দুবার ওষুধ ছিটানো হয়। মাসে ৩-৪ দিন রানওয়ে ও খোলা জায়গাগুলোতে ধুপও দেয়া হয়। তবে কোনোটিতে কাজ হচ্ছে না।

sahjalal-airportবিমানবন্দরে মশার অসহনীয় এ উৎপাত শুরু ২০১৮ সাল থেকে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের (এমএইচ ১৯৭) একটি ফ্লাইট যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে এগিয়ে যায়। বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ওঠার সময় মশাও ঢুকে পড়ে। মশার উৎপাতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে অভিযোগ করেন কেবিন ক্রুদের কাছে। বাধ্য হয়ে রানওয়ের পরিবর্তে পুনরায় বে-এরিয়ায় উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন পাইলট। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে মশার নিধন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯ সালে মশার উৎপাতের কারণে একাধিক ফ্লাইট শাহজালাল থেকে দেরিতে ছাড়ে। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি মশার উৎপাত বন্ধ করতে এবং মশা নিধনে নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতার অভিযোগে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিমানবন্দর সংলগ্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভির আহমেদ। এরপর মশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের বেশকিছু নির্দেশনা দেন আদালত। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি মশার উৎপাত। এ বছরও বিমানবন্দর ‘নিয়ন্ত্রণ’ করছে তারা।

মশা কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে— জানতে চাইলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল-হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা, ড্রেন, নালা ও জলাশয়ের কচুরিপানাসহ যেসব স্থানে মশার বিস্তারের সম্ভাবনা থাকে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রতিদিন সকাল ও দুপুরের আগে মশার উৎপাদনের (ব্রিডিং প্লেস) জায়গাগুলোতে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেলে ফগার মেশিন দিয়ে ফগিং হচ্ছে। মাঝে মাঝে ধুপও ব্যবহার হচ্ছে। এসব কাজ প্রতিদিনই চলমান।

তিনি আরও বলেন, মশা তাড়ানোর জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের একটি নতুন ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আমরা সেই ওষুধ চেয়ে সিটি করপোরেশনকে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। সেটি পেলে নতুন করে ওষুধ ছিটানো শুরু হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন জাগো নিউজকে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি আমরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক করি। সেখানে ডিএনসিসি মেয়র উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে মূল কাজটি করবেন তারা (বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ)। আর আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব বলে কথা দিয়েছি এবং নিয়মিত সাপোর্ট দিচ্ছি।