বুধবার । মার্চ ১১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে যুব বেকারত্ব সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ: প্রধান উপদেষ্টা


Chief-Adviser

বিশ্বব্যাপী তরুণরা পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হলেও তারা অসমতা, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সুরক্ষাবাদ ও ডিজিটাল বিভাজনের মতো সংকটের প্রথম শিকার উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হলো যুব বেকারত্ব। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এ হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি।”

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত যুবকদের জন্য বিশ্ব কর্মপরিকল্পনার (ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন ফর ইয়ুথ) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তরুণরা নিজেদের, পৃথিবীর এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ একা বহন করতে হবে না; তরুণদের ন্যায্য অংশ, নিরাপদ পরিসর এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা দিতে পারলেই তারা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

ড. ইউনূস বলেন, “৮৫ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করছি এই প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য। গত বছর বাংলাদেশে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যুবসমাজের অসাধারণ শক্তি। তারা সাহসিকতার সঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে জাতিকে নতুন পথে পরিচালিত করেছে এবং আমাকে সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দায়িত্ব দিয়েছে।”

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে জাতীয় যুব উদ্যোক্তা নীতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি সংস্কার কমিশনে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা চালু করে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে যুবসমাজের কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন ফর ইয়ুথ, প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার, জাতিসংঘ ইয়ুথ স্ট্র্যাটেজি ২০৩০ এবং ইয়ুথ, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা–কে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনো দেশ একা যুব ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারবে না। বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃপ্রজন্ম নেতৃত্ব তৈরি সম্ভব নয়। অন্যথায় হতাশা দ্রুত অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।”