বুধবার । মার্চ ১১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

নিয়মিত বাংলাদেশ সফর করুন, শীর্ষ মানবাধিকার কর্মীদের প্রধান উপদেষ্টা


CA Human Rights

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের বাংলাদেশ সফর অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ এক ‌‘গুরুত্বপূর্ণ সময়’ অতিক্রম করছে, এ সময়ে নিয়মিত সফর অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের হোটেলে শীর্ষ মানবাধিকার কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডির নেতৃত্বে দলটি বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস প্রতিনিধি দলকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বিভিন্ন খাতের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং মানবাধিকার নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, আমরা একেবারে ভঙ্গুর একটি অবস্থা থেকে শুরু করেছি। জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতরকে গত বছরের হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের প্রতিবেদনে অনেক বিষয় উঠে এসেছে। এরপর থেকে আমরা বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও জানান, গুমের ঘটনায় তদন্ত করতে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। মানুষ সেখানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে—প্রতিটি ঘটনাই ভয়াবহ। বছরের পর বছর এসব ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। ‘আয়নাঘর’-এ মানুষকে আটকে রাখা হতো, অনেক সময় তারা জানতেও পারত না কেন সেখানে আনা হয়েছে। গুম কমিশন এখনও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়নি, তবে আমরা নিয়মিত আপডেট পাচ্ছি।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন খাতে সংস্কার প্রস্তাবের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, আমরা চাই এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হোক—যা বাংলাদেশ কখনো সত্যিকার অর্থে পায়নি। বছরের পর বছর ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও অনেকে ভোট দিতে আসেনি। এবার আমরা তাদের, বিশেষ করে নারীদের, স্বাগত জানাতে চাই। তাদের অংশগ্রহণ উদ্‌যাপন করতে চাই। কীভাবে ভোট দিতে হয়—তা বোঝাতে বড় প্রচারণা শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে, যার সুবিধাভোগী রয়েছে দেশ-বিদেশে। তারা ভালোভাবেই প্রস্তুত—এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের আইনগত প্রক্রিয়া খুব জটিল। আমি আশা করি মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে আওয়াজ তুলবে, যাতে ব্যাংকগুলো চুরি হওয়া অর্থ গোপন রাখতে না পারে। এ অর্থ আসলে জনগণের।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাথরিন কুপার (স্টাফ অ্যাটর্নি, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস), মানদীপ তিওয়ানা (সেক্রেটারি জেনারেল, সিভিকাস), ম্যাথিউ স্মিথ (সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা, ফোর্টিফাই রাইটস), সাবনাজ রশিদ দিয়া (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট), ক্যারোলিন ন্যাশ (এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল), মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান (ভিজিটিং ইন্টারন্যাশনাল স্কলার, ওহাইও ইউনিভার্সিটি) এবং জেসেলিনা রানা (জাতিসংঘ উপদেষ্টা, সিভিকাস)।