শুক্রবার । মার্চ ২০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন: বাংলাদেশ


CA UN Rohingya

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার আট বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই, বরং আন্তর্জাতিক তহবিল সংকট উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে আয়োজিত মিয়ানমারে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

এসময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ হয় এবং দ্রুত তাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো যায়। এটি সংকটের একমাত্র সমাধান। এ ইস্যু মিয়ানমারের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কারের জিম্মি হয়ে থাকা উচিত নয়।

বাংলাদেশের মতে, তহবিল হ্রাস পাওয়ায় একমাত্র শান্তিপূর্ণ সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার তুলনায় এতে অনেক কম সম্পদের প্রয়োজন হবে। রোহিঙ্গারা সব সময় নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে যারা সম্প্রতি সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের ফেরত পাঠানো উচিত।

বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, এ সংকটে দেশটি ভুক্তভোগী। বিশাল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ বহন করতে হচ্ছে। রাখাইন থেকে আসা মাদক প্রবাহসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলছে। নিজেদের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সাত দফা প্রস্তাব করেছে—
১. রাখাইনকে স্থিতিশীল করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা প্রণয়ন;
২. মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা বন্ধ করা এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাসহ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন শুরু;
৩. রাখাইন স্থিতিশীলতায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোগাড় করা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা;
৪. রাখাইন সমাজ ও প্রশাসনে রোহিঙ্গাদের টেকসই একীভূতকরণের জন্য আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ;
৫. যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) পূর্ণ অর্থায়নে দাতাদের সহায়তা নিশ্চিত করা;
৬. জবাবদিহি ও পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা;
৭. মাদক অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া ও সীমান্তপার অপরাধ দমন।

বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের ফেরার অপেক্ষায় ফেলে রাখতে পারে না। এখনই সবাইকে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।