
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের ফাঁকে ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক ও লেখক মেহেদি হাসানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে পুরো সময় সহযোগিতা করেছে এবং এখনো আশা করছে তিনি “বিজয়ীর বেশে” বাংলাদেশে ফিরবেন।
মেহেদি হাসানের জনপ্রিয় টকশো ‘হেড টু হেড’-এ সম্প্রচারের আগে নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা মতামত দেন ড. ইউনূস।
মেহেদি হাসান ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম জিটিও’র প্রতিষ্ঠাতা। জেটিওতে ৩৪ মিনিটের পুরো সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি প্রচার করা হয়। বাংলা টেলিগ্রাফের পাঠকদের জন্য ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:
শেখ হাসিনার পতন ও ছাত্র আন্দোলন
ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার দুই দশকের শাসনের অবসানের রাতে তিনি “অভূতপূর্ব উত্তেজনা” অনুভব করেছিলেন। আন্দোলন চলছিল, কিন্তু শেখ হাসিনা দেশ ছাড়বেন- এটি আগে অনুমান করতে পারেননি।
শিক্ষার্থীরা তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের প্রস্তাব দিলে প্রথমে তিনি তা এড়িয়ে যান। কিন্তু ছাত্রদের আত্মত্যাগের কথা শুনে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শেখ হাসিনা ভারতে, ভারতের অবস্থান
সাক্ষাৎকারে মেহেদি হাসান উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরক্ষায় আছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করেছে। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ভারত যদি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেবে। তবে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
ভারত শেখ হাসিনাকে দীর্ঘদিন সহযোগিতা করেছে এবং এখনো আশা করছে তিনি পূর্ণ গৌরব নিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিতকরণ
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি; শুধু তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে দলটি বৈধ থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। “যে কোনো সময় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে” বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও সহিংসতার অভিযোগ
হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে ড. ইউনূস সেগুলোকে “মিথ্যা সংবাদ” বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পারিবারিক বা জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। সরকার সতর্ক অবস্থানে আছে।
সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক
সেনাপ্রধানের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ফাটল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি পরিবর্তনের সময় ছিল, সবকিছু ভেঙে পড়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।” নির্বাচনের সময়সূচি ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ড. ইউনূস নিশ্চিত করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়বেন। তবে “আমি কখনোই অবসরে যাইনি”- উল্লেখ করে জানান, দায়িত্ব শেষে আবারও ব্যক্তিগত কাজ ও আগ্রহের দিকে ফিরবেন।







































