
ভাষাসৈনিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক (৯৫) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কিডনির জটিলতার পাশাপাশি সম্প্রতি একাধিকবার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’-এ আক্রান্ত হন আহমদ রফিক। বারডেমের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কানিজ ফাতেমার তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় গত রোববার তাকে বারডেমে স্থানান্তর করা হয়। হেলথ অ্যান্ড হোপে অবস্থানকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া আহমদ রফিক নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরের একটি ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। স্ত্রীকে হারান ২০০৬ সালে; নিঃসন্তান এই লেখকের ব্যক্তিগত সম্পদ বলতে রয়েছে কেবল বিপুলসংখ্যক বইয়ের সংগ্রহ।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ইতিহাসবিদ ও বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা। দুই বাংলার রবীন্দ্রচর্চায় তার অবদান অনন্য, কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে পেয়েছেন ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি।
২০১৯ সাল থেকে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে থাকে, অস্ত্রোপচারেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার পর থেকে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ২০২৩ সাল থেকে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখা এই প্রবীণ বুদ্ধিজীবীর উন্নত চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন।









































