রবিবার । জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২ অক্টোবর ২০২৫, ৮:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, শনিবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণের শঙ্কা


দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও মহল্লা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্গাপূজা উদযাপনকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। ছুটিতে গ্রামের পথে থাকা মানুষও সড়ক-মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে আটকে দুর্ভোগে পড়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।

আগামী শনিবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। উজানে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরায়ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে, যা বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, ফেনী, লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। ফেনীর মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে যেতে পারে।লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে তিস্তার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভূগাই ও কংস নদীর পানিও তিন দিনের মধ্যে সতর্কসীমায় পৌঁছানোর শঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীতে মঙ্গলবার রাতভর বৃষ্টিতে অসংখ্য সড়ক পানিতে ডুবে যায়। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউমার্কেট, আজিমপুর, গ্রীন রোড, আরামবাগ, মালিবাগ, মৌচাক, মিরপুরের কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকে। দোকানপাট ও হাসপাতাল এলাকাও পানিতে ডুবে যায়।

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বৃষ্টির পানিতে নগরীর প্রায় সব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। দুপুর নাগাদ অনেক এলাকা থেকে পানি নামলেও উন্নয়নকাজ চলায় বিমানবন্দর এলাকার পরিস্থিতি এখনও জটিল।

নিম্নচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সাগর উত্তাল রয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে তিন থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে।

ডিসেম্বরে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং কুয়াশার প্রকোপ বাড়বে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।